Skip to main content

সময় আর মূল্যায়ন!



সময়ের মূল্য আসলে কতখানি? সময়ের কথাই কেন বারবার ঘুরে ফিরে আসে? সময়ের কি কোন বিকল্প নেই? লালনের - সময় গেলে সাধন হবে না, কথাটা কি আসলেই সত্য। সময়কে কিভাবে কাজে লাগানো যায়? সময়কে কাজে লাগানোর মানেই কি সময়ের মূল্যায়ন করা?

অনলাইনে ঘাটাঘাটি করে বহু সংজ্ঞা পেয়েছি কিন্তু সোজাসাপ্টাভাবে এককথায় যদি বলতে হয় তাহলে উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞাটাই বলতে হয়, 

  • a dimension in which events can be ordered from the past through the present into the future, and also the measure of durations of events and the intervals between them.
https://www.quora.com এ গেলে 

What is time? Why is it so valuable?  

শীর্ষক পাতায় দেখতে পাবেন সময় কি এবং কেন অনেক গুরুত্বপুর্ণ-এই প্রশ্নের দুটো উত্তর দেওয়া আছে। Servio Astacio নামের একজন খুব সুন্দর করে সময় সম্পর্কে খুব সহজ ভাষায় লিখেছেন। 
তো সময় কি সে সম্পর্কে এতো কথা না বাড়িয়ে চলুন সামনের দিকে এগুই। আমার মনে হয় আমরা প্রত্যেকেই জীবনে ভালো কিছু করতে চাই, হতে চাই, মানে যারা একটু সচেতন মানুষ তাদের কথাই বলছি আরকি। আর ভালো কিছু করতে হলে যে সময়কে হাতের মুঠোয় রাখতে হবে সে সম্পর্কেও আমাদের জানা আছে। সময়কে হাতের মুঠোয় রাখা বলেছি বলে আবার ক্ষেপে যাবেননা! এটা দ্বারা আমি টাইম মেনেজমেন্টের ব্যাপারটাকে বুঝিয়েছি। আর টাইমকে মেনেজ করা যে কতটা কঠিন কাজ সেটাও নিশ্চয়ই বুঝেছি এতোদিনে। কিন্তু এই যে সময় নিয়ে এতো কথা, এতো কথা তো আমাদের আজকাল শুনতেই ইচ্ছা করেনা, বিরক্ত লাগে। এতো কথার কি দরকার। হ্যাঁ, দরকার আছে বলেই তো বড় বড় সফল মানুষজন সময়কে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখেন। আজকে আমার আর একজন সফল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায় জানেন? এই সময়েই। আজকের দিনের সফল ব্যক্তি সফল হয়েছেন কারণ তিনি সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন। খুবই সহজ ও সোজাসাপ্টা কথা। আমি এভাবে কথা বলে লেখাকে অনেক বড় করতে পারবো কিন্তু সেটা নিতান্তই নিষ্প্রয়োজন। আপনাকে আমি বলব এখনই চিন্তা করুন একটু, আপনি সারাদিন কিভাবে সময় কাটান আর বিগতদিনগুলোতে কিভাবে কাটিয়েছেন। একজন সফল ব্যক্তির সাথে নিজের জীবনের কর্মকান্ডের তুলনা করুন। ভেবে দেখুন আপনি একসময় কি হতে চাইতেন, কি করতে চাইতেন, এখন করছেন কিনা, আপনার স্বপ্ন বলে কিছু আছে কিনা, নাকি জীবনকে একরকম ঝামেলাবিহীনই পার করতে চান। আপনাকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত আপনি ব্যবহারিক দিক দিয়ে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা না করবেন ততদিন পর্যন্ত জীবনে ভালো কিছু একটা করবার বাসনা ভুলে যান। আপনি, আমি সময়কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছিনা। তবে দেখুন আমি সময়কে কাজে লাগানোর একটা সুন্দর পথ বেছে নিয়েছি আর তাহলো এই লেখালেখি যার মাধ্যমে আপনাকে ও আরো বহু মানুষকে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবো। আর একটা কথা মাথায় রাখবেন, সবকিছু নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আপনি নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবেন। জীবনকে নিয়ে একটু ভাবুন, অনেক কিছু বুঝতে পারবেন, উপলব্ধি করতে পারবেন অনেককিছু। সময়কে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করুন- আমি কি আজকের দিনে সময়কে কাজে লাগিয়েছি? সাফল্য আসবেই। 


Comments

Popular posts from this blog

FOUR STAGES OF LEARNING

সাদমান সাদিক ভাইয়ার একটা ইউটিউব vlog থেকে দারুণ জিনিস শিখেছিলাম। সেটাই আজকে সবার সাথে শেয়ার করছি। শেখার ৪টি ধাপ আছে। ধাপগুলো হলো- ১. Unconsciously incompetent ২. Consciously incompetent ৩. Consciously competent  ৪. Unconsciously competent  একেবারে প্রথম ধাপটার অর্থ হলো আমাদের শেখার এমন অবস্থা যে অবস্থায় আমরা জানিনা যে আমরা কি জানিনা। দ্বিতীয় ধাপটা আসে প্রথম ধাপটা অতিক্রম করার পরে এবং তা বোঝায় যে আমরা সচেতনভাবে জানি যে আমরা কি জানিনা। যেহেতু দ্বিতীয় ধাপে আমরা জানি আমরা কি জানিনা/আমাদের কি জানা প্রয়োজন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা ইচ্ছা করলেই তা জেনে ফেলতে পারব। তারপরে আসে তৃতীয় ধাপ। যখন আমরা যা জানিনা সচেতনভাবে তা জেনে ফেলবো তখন আমরা শেখার তৃতীয় ধাপে চলে আসব। তারপর এমন হবে যে আমাদের জানা/পারা জিনিস আমরা অনেকবার করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে যাব। ফলশ্রুতিতে আমরা তখন  আমাদের জানা/পারা কাজটা অচেতনভাবেই করে ফেলব। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যখন অজু করি কখন শুরু করলাম আর কখন অজুর এক একটা ধাপ শেষ করলাম টেরই পেলাম না। অচেতনভাবে/ মনের অজান্তে কোন কাজ ঠিকঠাকই করেছি , এমন অবস্থা যখন হয় ...

হঠাৎ লেখা!

শীতের আগমনী মনে করিয়ে দেয় আগের স্মৃতিগুলো ভরিয়ে তোলে হঠাৎ মনপ্রাণ সবকিছু গ্রামের স্কুলের কাছের সেই পুকুরের ধারে বসে বসে সূর্যের আলোর খেলা মনে পড়ে মনে পড়ে কোলাহলপূর্ণ একটা মাঠের কথা।  একটা সময় কি সুন্দর সময় কেটেছে! বন্ধুদের আড্ডায় কি মজা হতো! শহরে আসার পর তো বয়স্কদের থেকে শুনি শহরেও একসময় চুটিয়ে আড্ডা হতো, আর এখন সবাই কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, আমিও সেটাই মনে করি। মোবাইল, ইন্টারনেট এসব যেন আমাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এইসবের দরকার তো অবশ্যই আছে। কিন্তু আমরা নিজেদেরকে এইসব ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনা, আমাদেরই দোষ। কি দরকার সারাক্ষণ মোবাইলের ভেতর মুখ ডুবিয়ে বসে থাকার? আমি মাঝেমাঝে ভাবতাম এইসব করে আমি আমার আব্বু, আম্মুর চেয়ে অনেক জ্ঞানী হয়ে যাচ্ছি, মোবাইলে অনেক কিছু দেখতে পারছি যেটা ওনাদের আমলে ওনারা পারেননি। হ্যাঁ, অবশ্যই এমন অনেক সুবিধা আমরা পাচ্ছি, আর বিভিন্নকিছু সম্পর্কে জানতে পারা, মোবাইল, ইন্টারনেট এর একটা সুফল, কিন্তু আমরা কতজন মানুষ এইসব ভালো কাজে মোবাইল ব্যবহার করছি? খুবই কম মানুষ এসব বিষয়ে সচেতন।  আজকাল আমাদের বয়সী প্রায় সকলেই দেড়ি করে ঘুম ...

আসন্ন কাল...

কত স্মৃতি আসবে, কত স্মৃতি ভাসবে মনে, এই সময় মনে রাখবে আমাদের শত কালগর্ভে; কত গান হবে লেখা, কত ছড়া করা হবে রচনা, সব হাসি আর মায়া হয়ে রয়ে যাবে গল্পে। কত আরো আসবে মেয়ে, কত ছেলে আরো ভালবাসবে, আরো যে কত কান্না ঝড়বে মাটিতে ভালবাসা না পাওয়ার কষ্টে! আরো কত পথ হবে, কত হবে পথিক, এই একটা পৃথিবীই যেন হবে একটা সময় দশটা পৃথিবী। আরো কত আসবে বাবা, কত আসবে মা, আমাদের মতোই আরো আসবে কত সন্তান, সবাই মিলে একই আত্মা হয়ে রবে শান্তিতে! আরো কত গড়বে কথা, কত যে হবে উপদেশ, সবকিছুর পর  একদিন হবেই সব নিঃশেষ! এরপর শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়...