Skip to main content

হঠাৎ লেখা!


শীতের আগমনী মনে করিয়ে দেয় আগের স্মৃতিগুলো
ভরিয়ে তোলে হঠাৎ মনপ্রাণ সবকিছু
গ্রামের স্কুলের কাছের সেই পুকুরের ধারে বসে বসে সূর্যের আলোর খেলা মনে পড়ে
মনে পড়ে কোলাহলপূর্ণ একটা মাঠের কথা। 
একটা সময় কি সুন্দর সময় কেটেছে! বন্ধুদের আড্ডায় কি মজা হতো! শহরে আসার পর তো বয়স্কদের থেকে শুনি শহরেও একসময় চুটিয়ে আড্ডা হতো, আর এখন সবাই কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, আমিও সেটাই মনে করি। মোবাইল, ইন্টারনেট এসব যেন আমাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এইসবের দরকার তো অবশ্যই আছে। কিন্তু আমরা নিজেদেরকে এইসব ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনা, আমাদেরই দোষ। কি দরকার সারাক্ষণ মোবাইলের ভেতর মুখ ডুবিয়ে বসে থাকার? আমি মাঝেমাঝে ভাবতাম এইসব করে আমি আমার আব্বু, আম্মুর চেয়ে অনেক জ্ঞানী হয়ে যাচ্ছি, মোবাইলে অনেক কিছু দেখতে পারছি যেটা ওনাদের আমলে ওনারা পারেননি। হ্যাঁ, অবশ্যই এমন অনেক সুবিধা আমরা পাচ্ছি, আর বিভিন্নকিছু সম্পর্কে জানতে পারা, মোবাইল, ইন্টারনেট এর একটা সুফল, কিন্তু আমরা কতজন মানুষ এইসব ভালো কাজে মোবাইল ব্যবহার করছি? খুবই কম মানুষ এসব বিষয়ে সচেতন। 
আজকাল আমাদের বয়সী প্রায় সকলেই দেড়ি করে ঘুম থেকে ওঠে কারণ রাত জেগে বিভিন্ন কারণে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকা হয়। আমাদের মনে হয় যে আমাদের অনেক গুরুত্বপুর্ণ কাজের কারণেই আমরা রাত জাগছি, কিন্তু আসলে রাত না জাগলেই বরঞ্চ ভালো, অন্য সময় করলে আরো ভালোভাবে কাজ করা যেতে পারে। এইসব রাত না জাগার ব্যাপারে বর্তমানে অনেক সচেতনতামূলক লেখালেখি ও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি হচ্ছে, সেগুলো আমরা অনেকেই দেখেছি, শুনেছি কিন্তু এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছি। 
তবে আশার বিষয় হলো আমাদের ভেতর থেকেই কিছু সচেতন মানুষ গড়ে উঠছে যারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। তাই একটা সুন্দর প্রজন্মের স্বপ্ন দেখাই যায়। 
আমার এই মুহূর্তেই মনে হলো, আমাদের প্রতিটা মুহূর্তই তো চলে যাচ্ছে, অর্থাৎ এখন যা বর্তমান মুহূর্তেই তা অতীত হয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদের এমন কোন কাজ করা দরকার যেটা সময় উপযোগী। আগেকার দিনের কোন কাজ যেটা এই যুগের সাথে যায় না, এমন কাজ না করে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করা যেতে পারে বাস্তবজীবনে। আমরা আমাদের আশপাশ থেকে কতই না ধারণা পাই বিভিন্ন কিছু সম্পর্কে, নাটক কিংবা মুভি থেকেও অনেক সৃষ্টিশীল কাজের আইডিয়া পাই, এসবের মধ্যে এমন অনেক জিনিস আছে, অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করলে এতোদিনে মহৎ কোন কাজ করা হয়ে যেত। আমাদের এরকম কাজই খুঁজে বের করা দরকার যেগুলো আসলেই আমাদের জীবনে কোন ভালো কিছু উপহার হিসেবে আনবে। 

Comments

Popular posts from this blog

FOUR STAGES OF LEARNING

সাদমান সাদিক ভাইয়ার একটা ইউটিউব vlog থেকে দারুণ জিনিস শিখেছিলাম। সেটাই আজকে সবার সাথে শেয়ার করছি। শেখার ৪টি ধাপ আছে। ধাপগুলো হলো- ১. Unconsciously incompetent ২. Consciously incompetent ৩. Consciously competent  ৪. Unconsciously competent  একেবারে প্রথম ধাপটার অর্থ হলো আমাদের শেখার এমন অবস্থা যে অবস্থায় আমরা জানিনা যে আমরা কি জানিনা। দ্বিতীয় ধাপটা আসে প্রথম ধাপটা অতিক্রম করার পরে এবং তা বোঝায় যে আমরা সচেতনভাবে জানি যে আমরা কি জানিনা। যেহেতু দ্বিতীয় ধাপে আমরা জানি আমরা কি জানিনা/আমাদের কি জানা প্রয়োজন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা ইচ্ছা করলেই তা জেনে ফেলতে পারব। তারপরে আসে তৃতীয় ধাপ। যখন আমরা যা জানিনা সচেতনভাবে তা জেনে ফেলবো তখন আমরা শেখার তৃতীয় ধাপে চলে আসব। তারপর এমন হবে যে আমাদের জানা/পারা জিনিস আমরা অনেকবার করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে যাব। ফলশ্রুতিতে আমরা তখন  আমাদের জানা/পারা কাজটা অচেতনভাবেই করে ফেলব। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যখন অজু করি কখন শুরু করলাম আর কখন অজুর এক একটা ধাপ শেষ করলাম টেরই পেলাম না। অচেতনভাবে/ মনের অজান্তে কোন কাজ ঠিকঠাকই করেছি , এমন অবস্থা যখন হয় ...

আসন্ন কাল...

কত স্মৃতি আসবে, কত স্মৃতি ভাসবে মনে, এই সময় মনে রাখবে আমাদের শত কালগর্ভে; কত গান হবে লেখা, কত ছড়া করা হবে রচনা, সব হাসি আর মায়া হয়ে রয়ে যাবে গল্পে। কত আরো আসবে মেয়ে, কত ছেলে আরো ভালবাসবে, আরো যে কত কান্না ঝড়বে মাটিতে ভালবাসা না পাওয়ার কষ্টে! আরো কত পথ হবে, কত হবে পথিক, এই একটা পৃথিবীই যেন হবে একটা সময় দশটা পৃথিবী। আরো কত আসবে বাবা, কত আসবে মা, আমাদের মতোই আরো আসবে কত সন্তান, সবাই মিলে একই আত্মা হয়ে রবে শান্তিতে! আরো কত গড়বে কথা, কত যে হবে উপদেশ, সবকিছুর পর  একদিন হবেই সব নিঃশেষ! এরপর শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়...